জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বিশ্বজুড়ে ক্রমে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম। এমন প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও আরো অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বার্সেলোনার সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর ফাইনান্সিয়াল টাইমস।

পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোয় সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসল উৎপাদনে ধস ও জোগান সংকটের প্রেক্ষাপটে খাদ্যমূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। তবে নতুন গবেষণাটি বলছে, অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে তীব্র মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে।

গবেষণায় জানানো হয়, ইউরোপে ২০২৩ সালে অলিভ অয়েলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে দক্ষিণ স্পেনে টানা খরার প্রভাব। ভারতে গত বছরের মে মাসের তাপপ্রবাহের পর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৮৯ শতাংশ। জাপানে চালের দাম ৪৮ ও চীনে সবজির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। ২০২২ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া ও অ্যারিজোনায় খরায় সবজির দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনটির প্রধান গবেষক ম্যাক্সিমিলিয়ান কটজ বলেন, ‘‌মানবসৃষ্ট গ্যাস নিঃসরণে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব ফেলছে। চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন পণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঘানা ও আইভরি কোস্টে খরা এবং অতিরিক্ত গরমে কোকোর দাম তিন গুণ বেড়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে চকোলেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এছাড়া বাজারে অনুমানভিত্তিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ভুল নীতিনির্ধারণ অনেক সময় এ প্রাকৃতিক সমস্যাগুলোর প্রভাব আরো বাড়িয়ে তোলে। যেমন ২০১০ সালে রাশিয়ায় দাবানলে গমের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সরকার রফতানি নিষিদ্ধ করে। এতে বিশ্বের অনেক দেশে রুটির দাম বেড়ে যায় এবং তা রূপ নেয় সামাজিক অস্থিরতায়।

গবেষণায় আরো জানানো হয়, উন্নয়নশীল দেশে ভোক্তা মূল্যসূচকে খাদ্যপণ্য বড় অংশজুড়ে থাকায় মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়ছে। ম্যাক্সিমিলিয়ান কটজ এ বিষয়ে বলেন, ‘এ অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা সরাসরি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করছে, যার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে খাদ্যদ্রব্য। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।’

প্রতিবেদনে আরো উঠে আসে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন আয়ের মানুষ।

যুক্তরাজ্যে গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৮ মাসে সর্বোচ্চ। এর পেছনেও একটি বড় কারণ ছিল খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

আরও